হাতিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করে শৃঙ্খল মুক্ত করা হল
দি নিউজ লায়ন ; প্রায় এক বছর আগে দলমার দাঁতাল দলের সাথেই খাবারের খোঁজে বাঁকুড়ার জঙ্গলে এসেছিল হাতিটি। তারপর এই হাতিটির আক্রমণে প্রাণ যায় বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জের চয়রাকুড়ি গ্রামের এক বাসিন্দার। এরপরই দামোদর পেরিয়ে হাতিটি ঢুকে পড়ে আসানসোলে।
সেখানেও পরপর দুজনকে মেরে ফেলে হাতিটি। বন দফতরের খাতায় খুনে হাতি হিসাবে ঘোষণা না হলেও মানুষের মুখে মুখে হাতিটি চিহ্নিত হয়ে যায় খুনে হাতি হিসাবে। মানুষের আতঙ্ক দূর করতে হাতিটিকে লোকালয় থেকে দূরের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বন দফতর। দলমার সাথে জঙ্গলপথে যোগ থাকায় হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করে ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের জঙ্গলে। নিয়ে যাওয়ার সময় হাতিটির চারটি পা ই ট্রাকের সাথে মোটা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়।
বান্দোয়ানে নিয়ে যাওয়ার পর হাতিটিকে জঙ্গলে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন বন কর্মীরা। জানা যায় হাতিটির তিনটি পায়ের শিকল খোলার পর ঘুম পাড়ানি গুলির ঘোর কেটে যায় হাতিটির। আচমকাই হাতিটি চতুর্থ শিকল ছিড়ে জঙ্গলে গা ঢাকা দেয় । হাতিটির পায়ে আটকে থাকে ছিড়ে যাওয়া লোহার শিকল। তারপর থেকে বহু খোঁজ করেও হাতিটির সন্ধান মেলেনি। মাস খানেক আগে আচমকাই পায়ে শিকল বাঁধা হাতিটি ফিরে আসে বাঁকুড়ায়। বিষ্ণুপুর, সোনামূখী হয়ে হাতিটি চলে আসে বড়জোড়ায়। শিকল থেকে হাতিটির শরীরে সংক্রমণ ঠেকাতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয় বন দফতর।
তারপর একাধিক বার চেষ্টা করেও হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করতে ব্যার্থ হয় বন দফতর। গতকাল কলকাতার তিন জন, বাঁকুড়ার দুজন ও ঝাড়গ্রামের একজন পশু চিকিৎসক এবং কলকাতা থেকে আনা ঘুম পাড়ানি গুলি চালানোতে বিশেষজ্ঞ কয়েকজন বনকর্মীকে নিয়ে একটি দল গঠন করে বড়জোড়া রেঞ্জের ডাকাইসিনির জঙ্গলে অভিযানে নামে বন দফতর।
দিনভর খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যার ঠিক আগে হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। চিকিৎসকরা কিছুক্ষণের চেষ্টাতে অস্ত্রোপচার করে হাতিটিকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে সমর্থ হয়। এরপরই হাতিটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের ডিএফও কল্যাণ রাই বলেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। আগামী বেশ কিছুদিন হাতিটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

Post a Comment